মানহানি মামলায় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসকে ৬৬ কোটি ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার একটি আদালত। ওই অর্থ টেক্সাসভিত্তিক জ্বালানি তেল কোম্পানি এনার্জি ট্রান্সফার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবে। খবর বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুসারে, বছর দশেক আগে ‘ডাকোটা অ্যাকসেস পাইপলাইন’ নামে একটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে গ্রিনপিস। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জীবাশ্ম জ্বালানি বিরোধী ওই আন্দোলনের ঘটনায় পরিবেশবাদী সংগঠনটির বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করে এনার্জি ট্রান্সফার।
স্থানীয় আদালতে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, গ্রিনপিস ষড়যন্ত্র করে এনার্জি ট্রান্সফারকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।
ওই মামলার রায়ে আদালত গ্রিনপিসকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে এখনই পরাজয় স্বীকার করেনি পরিবেশবাদী সংগঠনটি। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে।
গত মাসে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, নর্থ ডাকোটার ওই ঘটনায় হওয়া মামলাটি তাদের পাঁচ দশক ধরে চলমান পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে। এছাড়া মামলাটি তাদের ঠেলে দিতে পারে দেউলিয়াত্বের দিকেও।
গ্রিনপিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্ট্যান্ডিং রক সু জাতির সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছে পাইপলাইন নির্মাণের বিরুদ্ধে ওই সময় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। গ্রিনপিস নয়, বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় আদিবাসী নেতারাই। মামলাটি স্পষ্টতই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর একটি গুরুতর হুমকি।
অন্যদিকে এনার্জি ট্রান্সফারের প্রধান আইনজীবী বলেন, ‘গ্রিনপিসের কর্মকাণ্ডের কারণে কোম্পানির কমপক্ষে ৩৪ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।’
রায়ের বিষয়ে ভার্জিনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব রিচমন্ডের আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কার্ল টোবিয়াস বলেন, ‘এ রায়ের ব্যাপকতা পরিবেশবাদী ও অন্যান্য জনস্বার্থবিষয়ক মামলার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি এটি অন্য কোম্পানিগুলোকেও একই ধরনের মামলা দায়েরের জন্য উৎসাহিত করতে পারে।’
এনার্জি ট্রান্সফারের করা মামলায় গ্রিনপিস ইউএসএ, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক তহবিল সংস্থা গ্রিনপিস ফান্ড ইনকরপোরেটেড এবং আমস্টারডামভিত্তিক মূল সংগঠন গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় চলতি মাসের শুরুতে ডাচ আদালতে পাল্টা মামলা করেছে গ্রিনপিস। এ মামলায় তাদের অভিযোগ, এনার্জি ট্রান্সফার আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে পরিবেশবাদী সংগঠন ও সমালোচকদের দমন করার চেষ্টা করছে।